Home Uncategorized জ্ঞানচক্ষু| দশম শ্রেণী |প্রশ্ন- উত্তর সমাধান|Gyanchokkhu|Class 10| Question-Answer Solved

জ্ঞানচক্ষু| দশম শ্রেণী |প্রশ্ন- উত্তর সমাধান|Gyanchokkhu|Class 10| Question-Answer Solved

0
707

জ্ঞানচক্ষু

আশাপূর্ণা দেবী

বহুবিকল্পীয় প্রশ্ন:প্রতিটি প্রশ্নের মান

. কাকে দেখে তপনের চোখ মার্বেলের মতন হয়ে গেল ?—

(ক) দিদিকে (নতুন মেসোমশাইকে (গ) বাবাকে (ঘ) নতুন পিসেমশাইকে

. নতুন মেসোমশাই ছিলেন একজন() লেখক (খ) গায়ক (গ) বই প্রকাশক (ঘ) চিকিৎসক

. “ছোটোমাসি সেই দিকে ধাবিত হয়।”—ছোটোমাসি ধাবিত হয়

() ছোটোমেসোর দিকে (খ) রান্নাঘরের দিকে (গ) তপনের দিকে (ঘ) ছাদের দিকে

৪. তপনের লেখা গল্প তার মেসোমশাইকে কে দিয়েছিল ?—

(ক) মা (খ) বড়োমাসি () ছোটোমাসি (ঘ) বাবা

. “তপন অবশ্য মাসির এই হইচইতে মনে মনে

(ক)  আনন্দ পায় (খ) উল্লসিত হয় (গ) খুশি হয় () পুলকিত হয়।

. “রত্নের মূল্য জহুরির কাছেই।”—এখানেজহুরিবলা হয়েছে

(ক) তপনের মাসিকে (খ) তপনের বাবাকে (গ) তপনের মাকে () তপনের নতুন মেসোকে

. “মেসোর উপযুক্ত কাজ হবে সেটা”–“উপযুক্ত কাজটা হল

() তপনের গল্পটা ছাপিয়ে দেওয়া

(খ) তপনের গল্পটা কারেকশান করে দেওয়া

(গ) তপনকে লেখায় উৎসাহ দেওয়া

(ঘ) তপনকে গল্প লেখার নিয়মকানুন শিখিয়ে দেওয়া।

. তপনের মেসোমশাই কোন্ পত্রিকার সম্পাদককে চিনতেন? —

(ক) শুকতারা (খ) আনন্দমেলা () সন্ধ্যাতারা (ঘ) দেশ।

. যে পত্রিকায় তপনের গল্প ছাপিয়ে দেওয়ার কথা হয়েছিল

(ক) শুকতারা () সন্ধ্যাতারা গ) একতারা (ঘ) সাহিত্যধারা

১০. ছোটোমেসোমশাই তপনের গল্প হাতে পেয়ে কী বলেছিলেন?—

(ক) আর-একটা গল্প লেখার কথা (খ) আরও দুটো গল্প দেওয়ার কথা

() এই গল্পটাই একটু কারেকশান করার কথা (ঘ) কোনোটাই নয়

১১. ছোটোমেসো শ্বশুরবাড়িতে কিছুদিন ছিলেন, কারণ

(ক) ছোটোমাসির শরীর ভালো ছিল না () তার কলেজের ছুটি চলছিল

(গ) কিছু জরুরি কাজ ছিল তাঁর (ঘ) কোনোটাই নয়

১২. লেখার আসল মূল্য বুঝবে

(ক) ছোটোমাসি () ছোটোমেসো (গ) বড়োমেসো (ঘ) তপনের মা

১৩. “তপনের হাত আছে”—কথাটির অর্থ হল

(ক) হস্তক্ষেপ () ভাষার দখল (গ) মারামারি (ঘ) জবরদস্তি

১৪. তপনের মেসোমশাই কোন্ পত্রিকায় তপনের লেখা ছাপানোর কথা বলেছিলেন?—

ক) ধ্রুবতারা (খ) শুকতারা () সন্ধ্যাতারা (ঘ) রংমশাল

১৫. তপনের লেখা গল্পটি নিয়ে কে চলে গিয়েছিলেন?—

() তপনের মেসোমশাই (খ) তপনের ছোটোমাসি

(গ) তপনের মা                  (ঘ) তপনের বাবা

১৬. তপন বিয়েবাড়িতে কী নিয়ে এসেছিল?—

ক) ব্যাট ও বল (খ) গল্পের বই গ) গানের খাতা () হোমটাস্কের খাতা

১৭. তপন তার গল্পটা লিখেছিল

() দুপুরবেলা (খ) সন্ধেবেলা গ) বিকেলবেলা (ঘ) গভীর রাতে

১৮. তপনের চিরকালের বন্ধু ছিল?—

(ক) ছোটোমেসো (খ) তপনের মা (গ) ছোটোমামা () ছোটোমাসি

১৯. তপনের ছোটোমাসি তার থেকে কত বছরের বড়ো ছিলেন ?—

() আট (খ) ছয় (গ) সাত (ঘ) দশ

২০. “ছুটি ফুরিয়ে এসেছে।”—

(ক) পুজোর () গরমের (গ) বড়দিনের (ঘ) পরীক্ষা প্রস্তুতির ছুটিটি ছিল ।

২১. বাড়িতে তপনের নাম হয়েছিল

(ক) গল্পকার, লেখক (খ) কবি, লেখক

() কবি, সাহিত্যিক, কথাশিল্পী (ঘ) কথাশিল্পী, গল্পকার ।

২২. তপন তার লেখা গল্পটা প্রথম শুনিয়েছিল

(ক) বন্ধুদের (খ) তার মাকে (গ) ছোটোমেসোকে () ছোটোমাসিকে

২৩. মামার বাড়িতে থেকে তপন প্রথম গল্পটি লিখেছিল

() দুপুরবেলা       (খ) সকালবেলা গ) বিকেলবেলা (ঘ) রাত্রিবেলা

২৪. তপন গল্প লেখার জন্য কী নিয়ে দুপুরবেলা তিনতলার সিঁড়িতে উঠে গেল?—

(ক) খাতা ও গল্পের বই () একটা খাতা পেন

(গ) একটা খাতা (ঘ) পেন ও গল্পের বই

২৫. “গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল তপনের”—এর কারণ হল

(ক) অজানা আতঙ্ক             () স্বরচিত গল্প পাঠের অনুভূতি

গ) ভৌতিক গল্প পাঠের ফলশ্রুতি   (ঘ) নতুন মেসোর ব্যবহার

২৬. ঠাট্টাতামাশার মধ্যে তপন যে কটি গল্প লিখেছে

(ক) একটি           () দুটিতিনটি                (গ) তিনটি-চারটি                              (ঘ) চার-পাঁচটি

২৭. “যেন নেশায় পেয়েছে”—যে নেশার কথা বলা হয়েছে

(ক) গল্প ছাপানোর নেশা (খ) মেসোর সমকক্ষ হওয়ার নেশা

() গল্প লেখার নেশা    (ঘ) বাড়িতে সম্মান বাড়ানোর নেশা

২৮. কোন্ পত্রিকায় তপনের লেখা ছাপা হয়েছিল?—

ক) ধ্রুবতারা    (খ) ভারতী               (গ) সাহিত্যচর্চা  () সন্ধ্যাতারা 

২৯. তপনের লেখা গল্পটার নাম কী ছিল?  —

(ক) ছুটি                খে) অবসর          ) প্রথম দিন     ঘ) কোনোটাই নয়

৩০. তপনের লেখা গল্প সংশোধন করে দিয়েছিল

) তপনের ছোটোমেসো         (খ) তপনের ছোটোমাসি

(গ) তপনের মা                                  (ঘ) তপনের এক বন্ধু

৩১. ছোটোমেসো কী নিয়ে তপনদের বাড়ি বেড়াতে এসেছিলেন?—

(ক) গল্পের বই  () সন্ধ্যাতারা পত্রিকা

(গ) নতুন জামা (ঘ) ভারতী পত্রিকা

৩২. “বুকের রক্ত ছলকে ওঠে তপনের।”—তপনের বুকের রক্ত ছলকে ওঠে

(ক) নতুন মেসোকে দেখে              (খ) তার গল্পটা ছাপা হয়েছে দেখে

() মেসোর হাতে সন্ধ্যাতারা পত্রিকা দেখে (ঘ) নিজের নাম ছাপার অক্ষরে দেখে।

৩৩. সন্ধ্যাতারা পত্রিকার সূচিপত্রে তপনের কী নাম লেখা ছিল? —

() শ্ৰীতপন কুমার রায়             (খ) তপন রায়

(গ) তপন                                                             (ঘ) কোনোটাই নয়

৩৪. তপনকে তার ছাপার আকারে লেখা গল্পটা পড়ে শোনাতে বলেছিলেন

() তপনের মা                               (খ) তপনের বাবা

(গ) তপনের দিদা              (ঘ) তপনের ছোটোমাসি

৩৫. তপনের পুরো নাম ছিল

(ক) তপন কুমার সেন     (খ) শ্ৰীতপন কুমার বিশ্বাস

গ) তপনকান্তি পাল          () শ্ৰীতপনকুমার রায়।

৩৬. ‘প্রথম দিনগল্পটির লেখক

(ক) তপন রায়    () শ্ৰীতপন কুমার রায়

গ) তপনচন্দ্র রায়               (ঘ) তপনপ্রসাদ রায়।

৩৭. “ক্রমশ কথাটাও ছড়িয়ে পড়ে।”—কথাটা হল

ক) গল্প লেখার কথা                  খে) গল্প কারেকশানের কথা

(গ) তপনের দ্বিতীয় গল্পের কথা   (ঘ) তপনের গল্প ছাপা হওয়ার কথা।

৩৮. “আমাদের থাকলে আমরাও চেষ্টা করে দেখতাম”-উক্তিটির বক্তা

(ক) ছোটোমাসি (খ) তপনের বন্ধুরা

() মেজোকাকু (ঘ) মেসো।

৩৯. “এর মধ্যে তপন কোথা ?”—তপন যার মধ্যে নিজেকে দেখতে পায়নি, সেটা হল

(ক) বাড়ির বড়োদের আলোচনার মধ্যে

(খ) সন্ধ্যাতারা পত্রিকায় ছাপা হওয়া গল্পলেখকদের মধ্যে

(গ) মেসোর ভালোবাসার মধ্যে

() তার পাঠানো গল্পের মধ্যে।

৪০. “তপন আর পড়তে পারে না। কারণ

) তপনের গল্পটা আগাগোড়াই কারেকশান করা হয়েছে

(খ) সকলের প্রশংসায় সে কাবু হয়ে গেছে

(গ)বড়োদের সামনে পড়তে সে লজ্জা পাচ্ছে

(ঘ) নতুন মেসোকে দেখে সে ঘাবড়ে গেছে।

৪১. “পৃথিবীতে এমন অলৌকিক ঘটনাও ঘটে ?”—অলৌকিক ঘটনাটি হল

(ক) এক লেখকের সঙ্গে তপনের ছোটোমাসির বিয়ে হয়েছে

খে) বাড়িতে তপনের নাম হয়ে গেছে কবি, সাহিত্যিক, কথাশিল্পী

() তপনের লেখা গল্প সন্ধ্যাতারা পত্রিকায় ছাপা হয়েছে

(ঘ) তপন দেখল ছাপানো গল্পের একটি লাইনও তার নিজের নয়

৪২ আজ যেন তার জীবনের সবচেয়ে দুঃখের দিনদিনটিকে সবচেয়ে দুঃখের দিন মনে হয়েছিল , সেটি ছিল

(A) ছোটোমাসির বিয়ের দিন

(B) মামাবাড়িতে আসার দিন

(C) নিজের গল্প ছাপা অক্ষরে দেখার দিন 

(D) মামাবাড়ি থেকে চলে যাওয়ার দিন

৪৩ছাপা হয় হোক , না হয় না হোক ’— এর মধ্যে তপনের যেমানসিকতা প্রকাশ পায় , তা হল 

(A) মরিয়া

(B) বিরক্তি

(C) দুঃখ

(D) অভিমান 

৪৪ তপনকে যেন আর কখনো শুনতে না হয় যা নাশোনার কথা বলা হয়েছে , তা হল – 

(A) সে গল্প লিখতে পারে না

(B) ছোটোমেসো গল্প লিখে দিয়েছেন

(C) ছোটোমাসি সুপারিশ করেছেন

(D) অন্য কেউ তার গল্প ছাপিয়ে দিয়েছেন

৪৫তার চেয়ে দুঃখের কিছু নেই , তার থেকে অপমানের ! ‘ — যে বিষয়ে কথা বলা হয়েছে , তা হল— (A) নিজের গল্প ছাপা না – হওয়া

(B) নিজের গল্পে অন্যের  লেখা লাইন পড়ে শোনানো

(C) বাড়ির লোকেদের ঠাট্টাতামাশা

(D) নিজের গল্প লিখতে না – পারা

৪৬ তপন প্রথমটা ভাবে ঠাট্টা , কিন্তু যখন দেখে মেসোর মুখে করুণার ছাপ , তখন আহ্লাদে _____ হয়ে যায়  

(A) আনন্দিত

(B) দুঃখিত

(C) কাঁদো কাঁদো 

(D) বিহ্বল

 অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন : প্রতিটি প্রশ্নের মান

রত্নের মূল্য জহুরির কাছেই কথাটির অর্থ কী ?

উঃকেবলমাত্র গুণী ব্যক্তিই অপরের গুণের কদর করতে পারে । তাই তপনের লেখা গল্পের প্রকৃত সমঝদার যদি কেউ থাকেন তবে তিনি তার লেখক মেসোমশাই ।

তপনের গল্প পড়ে তার নতুন মেসোমশাই কী বলেন

উঃ তপনের লেখা গল্প পড়ে তার নতুন মেসোমশাই তাকে উৎসাহ দিয়ে বলেন , গল্পটা ভালোই হয়েছে , একটু কারেকশন করে দিলে সেটা ছাপানোও যেতে পারে । 

বিকেলে চায়ের টেবিলে ওঠে কথাটা কোন্ কথাটা

উঃ লেখক মেসোমশাইকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে তপন যে একটা আস্ত গল্প লিখে ফেলেছে , এই কথাটা বিকেলে চায়ের টেবিলে উঠেছিল ।

তপনদের মতোই মানুষ ‘ — কথা বলার কারণ কী

উঃলেখক যে কোনো আকাশ থেকে পড়া জীব নয় আর সকলের মতোই সাধারণ মানুষ ; নতুন মেসোকে দেখে তপন এই সত্য টের পায় ।

সারাবাড়িতে শোরগোল পড়ে যায়শোরগোলের কারণ কী

উঃতপনের লেখা গল্প পত্রিকায় ছাপা হয়েছে , এই শুনে সারাবাড়িতে শোরগোল পড়ে যায়।

মেসো তেমনি করুণার মূর্তিতে বলেনকী বলেন ?

উঃ মেসো তেমনি করুণার মূর্তিতে তপনের মাসিকে বলেন যে , তিনি ‘ সন্ধ্যাতারা ‘ – র সম্পাদককে বলে তপনের গল্পটা ছাপিয়ে দেবেন ।

তা ঘটেছে , সত্যিই ঘটেছেকী ঘটেছে ?

উঃ তপনের লেখা গল্প ‘ সন্ধ্যাতারা ‘ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে ।

জ্ঞানচক্ষুগল্পটি কার লেখা ? এর উৎস উল্লেখ করো

উঃ আশাপূর্ণা দেবী রচিত ‘ জ্ঞানচক্ষু ’ গল্পটির উৎস হল তাঁর ‘ কুমকুম ‘ নামক ছোটোদের গল্পসংকলন । 

কথাটা শুনে তপনের চোখ মার্বেল হয়ে গেল। কোন কথা শুনে তপনের চোখ মার্বেল হয়ে গেল

উঃ লেখকরা ভিন্ন জগতের প্রাণী — এটিই ছিল তপনের ধারণা । কিন্তু তার নতুন মেসোমশাই একজন লেখক শুনে বিস্ময়ে তপনের চোখ মার্বেল হয়ে গেল । 

১০সত্যিকার লেখক ’— এই উক্তির মধ্য দিয়ে তপনের মনের কোন্ ভাব প্রকাশিত হয়েছে বলে তোমার মনে হয়

উঃ এই উক্তির মধ্য দিয়ে তপনের মনের বিস্ময় প্রকাশ পেয়েছে । লেখকরা আদৌ বাস্তব জগতের মানুষ নন – এই অলীক ভাবনা নতুন মেসোর সঙ্গে পরিচয়ে ভেঙে যাওয়াতেই এমন উক্তি । 

১১আর সেই সুযোগেই দেখতে পাচ্ছে তপন কোন্ সুযোগে তপন কী দেখতে পাচ্ছে

উঃ লেখক মেসোমশাইকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়ে তপন বুঝতে পারে লেখকরা কোনো আকাশ থেকে পড়া জীব নয় , তাদেরই মতো মানুষ । 

১২ তপনের মনে লেখক হওয়ার বাসনা জাগল কেন ?

উঃ লেখক নতুন মেসোমশাইকে দেখে তপন বুঝেছিল লেখকরা আসলে তাদের মতোই সাধারণ মানুষ । তাই উৎসাহিত তপন তার এতদিনের গল্প পড়ার ও শোনার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে লেখক হতে চায় । 

১৩তখন আহ্লাদে কাঁদো কাঁদো হয়ে যায় ’— কে , কেন আহ্লাদে কাঁদো কাঁদো হয়ে যায় ?

উঃ ছোটোমেসো তপনের লেখাটা ছাপানোর কথা বললে তপন প্রথমে সেটাকে ঠাট্টা বলে ভাবে । কিন্তু মেসোর মুখে করুণার ছাপ দেখে তপন আহ্লাদে কাঁদো কাঁদো হয়ে যায় । 

১৪না করতে পারবে না ‘ – কে , কাকে , কী বিষয়ে নাকরতে পারবে না

উঃ তপনের লেখক ছোটোমেসো ‘ সন্ধ্যাতারা ’ পত্রিকার সম্পাদককে তপনের লেখা গল্পটা ছাপানোর জন্য অনুরোধ করলে সম্পাদকমশাই না করতে পারবেন না ।

১৫ তপনের বয়সি আর পাঁচটা ছেলেমেয়ের লেখার সঙ্গে তপনের লেখার তফাত কী

উঃ তপনের বয়সি ছেলেমেয়েরা সাধারণত রাজারানি , খুন – জখম – অ্যাকসিডেন্ট অথবা না – খেতে পেয়ে মরা- এইসব বিষয়ে গল্প লেখে । কিন্তু তপনের লেখার বিষয় ছিল তার প্রথম দিন স্কুলে ভরতির অভিজ্ঞতা । 

১৬ এটা খুব ভালো , ওর হবে কে , কোন প্রসঙ্গে কথা বলেছেন

উঃ তপন তার স্কুলে ভরতির প্রথম দিনের অভিজ্ঞতা নিয়ে  একটি গল্প লিখেছিল । তার লেখার নিজস্বতা দেখে মেসো এমন মন্তব্য করেছেন ।

১৭মাথার চুল খাড়া হয়ে উঠল এর কারণ কী ছিল

উঃ নতুন মেসোর দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে তপন নিজেই চেষ্টা করে একটা গল্প লিখে ফেলে । নিজের সৃষ্টিতে রোমাঞ্চিত হয়ে তার মাথার চুল খাড়া হয়ে ওঠে ।

১৮ভালো হবে না বলছি ’— কে , কাকে , কেন এই কথা বলেছে ?

উঃ তপনের লেখা গল্পটা কিছুটা পড়েই ছোটোমাসি তার প্রশংসা করেন । তারপর তিনি জিজ্ঞাসা করেন লেখাটা অন্য কোনো স্থান থেকে টোকা কিনা । তখন বিরক্ত হয়ে তপন আলোচ্য উদ্ধৃতিটি করে ।

১৯কিন্তু গেলেন তোগেলেনই যে ! – কার প্রসঙ্গে কথা বলা হয়েছে

উঃ তপনের লেখা গল্প সামান্য কারেকশন করে ‘ সন্ধ্যাতারা ‘ – য় ছাপিয়ে দেবেন বলে ছোটোমেসো তা নিয়ে যান । তারপর অনেকদিন কেটে গেলেও সে – ব্যাপারে কোনো সংবাদ না পাওয়ায় এ কথা বলা  হয়েছে ।

২০যেন নেশায় পেয়েছে কোন নেশার কথা বলা হয়েছে ?

উঃ নতুন মেসোকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে তপন যে – গল্প লিখেছিল তা মাসির উৎসাহে মেসো ছাপিয়ে দেওয়ার কথা বলেন । এরপর থেকে  তপনকে গল্প লেখার নেশায় পায় । 

২১বুকের রক্ত ছলকে ওঠে তপনের।তপনের বুকের রক্ত ছলকে ওঠার কারণ কী ছিল ?

উঃ গল্প ছাপানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে দীর্ঘদিন অদৃশ্য থাকার পর হঠাৎই একদিন ছোটোমাসি ও মেসো ‘ সন্ধ্যাতারা ‘ পত্রিকা হাতে নিয়ে তপনদের বাড়িতে আসেন । তাতে তার গল্প ছাপার কথা ভেবে তপনের বুকের রক্ত ছলাত করে ওঠে ।

২২ পৃথিবীতে এমন অলৌকিক ঘটনাও ঘটে ? – এখানে কোন্ ঘটনাকে অলৌকিক ঘটনা বলা হয়েছে

উঃ পত্রিকায় তপনকুমার রায়ের লেখা গল্প ছাপার অক্ষরে প্রকাশিত হওয়া এবং সেই পত্রিকা বহু মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়ার ঘটনাকেই ‘ জ্ঞানচক্ষু ’ গল্পে অলৌকিক ঘটনা বলা হয়েছে । 

২৩বাবা , তোর পেটে পেটে এত ! ‘ — কে , কোন প্রসঙ্গে কথা বলেছিলেন ?

উঃ ‘ জ্ঞানচক্ষু ’ গল্পে তপনের লেখা গল্প ‘ সন্ধ্যাতারা ’ পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার পর বাড়িময় শোরগোল পড়ে যায় । তখন তপনের মা এই কথাটি তপনের সুপ্ত প্রতিভা সম্পর্কে বলেন ।

২৪ক্রমশ কথাটাও ছড়িয়ে পড়ে ’— কোন্ কথা ছড়িয়ে পড়ে

উঃ ‘ সন্ধ্যাতারা ‘ – য় তপনের গল্প মেসো কারেকশন করে ছাপারে ব্যবস্থা করেছেন — এই কথাটিই ছড়িয়ে পড়ে । 

২৫তপনের লেখা সম্পর্কে তার বাবার কী বক্তব্য  

উঃ তপনের বাবা মনে করেন , তপনের লেখক ছোটোমেসো তপনের লেখাটা কারেকশন করে দিয়েছিলেন বলেই এত সহজে সেটা পত্রিকায় ছাপানো সম্ভব হয়েছে । 

২৬ তপনের লেখা পত্রিকায় ছেপে বেরোতে দেখে তার মেজোকাকু কী বলেন ?

উঃ তপনের লেখা ছেপে বেরোনোর কৃতিত্ব তপনকে না – দিয়ে মেজোকাকু ব্যঙ্গ করে বলেন , তাঁদের ওরকম লেখক – মেসোমশাই থাকলে তাঁরাও গল্প লেখার চেষ্টা করে দেখতেন । 

২৭তাই জানতো না’- কে , কী জানত না ?

উঃ জলজ্যান্ত একজন লেখককে যে এত কাছ থেকে দেখা যায় , ‘ জ্ঞানচক্ষু ‘ গল্পের নায়ক তপন তাই জানত না । 

২৮তপন কৃতার্থ হয়ে বসে বসে দিন গোনে তপনবসে বসে দিন গোনে কেন

উঃ পত্রিকায় গল্প ছাপা হওয়ার আশায় তপন কৃতার্থ হয়ে বসে বসে দিন গোনে ।

২৯গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল তপনেরতপনের গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল কেন

উঃ তপনের নিজের লেখা গল্প , যা কারেকশনের পর সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছিল তা পাঠ করে তার গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠেছিল ।

৩০জ্ঞানচক্ষু গল্পে তপনের মেসো কোন্ মহত্ত্ব দেখিয়েছিলেন ?

উঃ লেখক মেসোমশাই সকলের সামনে তপনের গল্পের প্রশংসা করেন এবং গল্পটি সংশোধন করে ‘ সন্ধ্যাতারা ‘ পত্রিকায় ছাপিয়ে দেন ।

৩১বইটা ফেলে রেখে তপন কী করে ?

উঃ বইটা ফেলে রেখে তপন ছাতে উঠে গিয়ে শার্টের তলাটা তুলে চোখের জল মোছে । 

৩২এই দুঃখের মুহূর্তে গভীরভাবে সংকল্প করে তপনসংকল্পটি কী

উঃ তপন সংকল্প করেছিল , ভবিষ্যতে  যদি কখনও আর কোনো লেখা ছাপাতে হয় , তবে সে নিজে হাতে সেই লেখা পৌঁছে দিয়ে আসবে পত্রিকার অফিসে ।

৩৩তপনকে যেন আর কখনো না শুনতে হয় ….. —এখানে কী শোনার কথা বলা হয়েছে

উঃ তপনকে যেন আর কখনও শুনতে না – হয় যে , অমুক তপনের লেখা ছাপিয়ে দিয়েছে ।

৩৪তার চেয়ে দুঃখের কিছু নেই , — কীসের কথা বলা হয়েছে

উঃ আশাপূর্ণা দেবী রচিত ‘ জ্ঞানচক্ষু ‘ গঙ্গে তপনের মনে হয়েছে নিজের গল্প পড়তে বসে অন্যের লেখা লাইন পড়ার চেয়ে দুঃখের আর কিছুই নেই । 

৩৫দুপুরবেলা , সবাই যখন নিথর নিথর’- তখন তপন কী করেছিল ?

উঃ বিয়েবাড়ির দুপুরবেলা সবাই যখন নিথর , তখন তপন হোমটাস্কের খাতা নিয়ে তিনতলায় উঠে একাসনে বসে আস্ত একটা গল্প লিখে ফেলেছিল । 

ব্যাখ্যাভিত্তিক সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন উত্তর :
. কথাটা শুনে তপনের চোখ মার্বেল হয়ে গেল”—কোন্ কথা শুনে কেন তপনের চোখ মার্বেল হয়ে গেল? +

উঃ তপন এতদিন ভেবে এসেছে লেখকরা বুঝি অন্য জগতের মানুষ । সাধারণ মানুষদের সঙ্গে তাদের কোনো মিলই নেই । তাই যখন সে শুনল যে তার ছোটো মেসোমশাই বই লেখেন , আর সেই বই ছাপাও হয় তখন তার বিস্ময়ের সীমা রইল না । নতুন মেসোমশাই একজন সত্যিকারের লেখক । এই আশ্চর্য খবরটা শুনেই তপনের চোখ মার্বেলের মতো গোল গোল হয়ে গেল । 
. সে সব বই নাকি ছাপাও হয় ’— উক্তিটিতে যেবিস্ময় প্রকাশিত হয়েছে , তা পরিস্ফুট করো

উঃ উক্তিটিতে প্রকাশিত বিস্ময় উত্তর / আশাপূর্ণা দেবী রচিত ‘ জ্ঞানচক্ষু ’ গল্পে তপন নামের বালকটি তার ছোটোমাসির সদ্যবিবাহিত স্বামী অর্থাৎ তার মেসো যে একজন লেখক , এ কথা জেনে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যায় । লেখকেরা যে সাধারণ মানুষ এবং তার মেসোমশাই একজন লেখক , যাঁর বই ছাপা হয় — এ তথ্য তার কাছে অবিশ্বাস্য মনে হয়েছিল । আলোচ্য উদ্ধৃতাংশে বালক তপনের মনের সেই বিস্ময় প্রকাশ পেয়েছে । 

রত্নের মূল্য জহুরির কাছেই / —কথাটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো  

উঃ উদ্ধৃতিটি আশাপূর্ণা দেবীর ‘ জ্ঞানচক্ষু ‘ গল্প থেকে গৃহীত । ‘ জহর ’ অর্থাৎ মূল্যবান রত্ন বিশেষজ্ঞকে জহুরি বলা হয় । এক্ষেত্রে জহুরি বলতে নতুন মেসোকে বোঝানো হয়েছে । লেখক মেসোকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে তপন একটা আস্ত গল্প লিখে মাসিকে দেখায় । মাসি তা নিয়ে সারাবাড়িতে শোরগোল বাধিয়ে মেসোকে দেখাতে যান । তপন ব্যাপারটায় আপত্তি তুললেও মনে মনে পুলকিত হয় এই ভেবে যে , তার লেখার মূল্য একমাত্র কেউ যদি বোঝে তবে ছোটোমেসোই বুঝবে , কেন – না জহুরির জহর চেনার মতো একজন লেখকই পারে কোনো লেখার মূল্যায়ন করতে ।

তপন অবশ্য মাসির এই হইচইতে মনে মনে পুলকিত হয় / — মাসি কেন হইচই করেছিলেন ?

উঃ গরমের ছুটিতে মামার বাড়িতে এসে নতুন মেসোকে দেখে তপনের মনে লেখক সম্পর্কে যেসব ধারণা ছিল তা ভেঙে যায় । জলজ্যান্ত লেখকের সঙ্গে কাটিয়ে তপন অনুপ্রাণিত হয়ে একটা আস্ত গল্প লিখে ফেলে । আর তা মাসির হাতে পড়ায় মাসি হইচই শুরু করে দেয় এবং তা নিয়ে তার লেখক স্বামীর কাছে যায় । এতে লাজুক তপন অপ্রস্তুত হলেও মনে মনে পুলকিত হয় , কারণ তার লেখার প্রকৃত মূল্য কেউ বুঝলে তা নতুন মেসোই বুঝবে ।

মেসোর উপযুক্ত কাজ হবে সেটা / —কোন্ কাজকে মেসোর উপযুক্ত কাজ বলা হয়েছে

উঃ লেখকরা যে সাধারণ মানুষ এ ব্যাপারে নতুন মেসোকে দেখে তপনের জ্ঞানচক্ষু খুলে গেল । তপন নতুন মেসোকে অহরহ কাছ থেকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে একটা আস্ত গল্প লিখে তার মেসোর উপযুক্ত কাজ প্রিয় ছোটোমাসিকে দেখায় । গল্পটি নিয়ে ছোটোমাসি রীতিমতো হইচই ফেলে দেয় । শুধু তাই নয় , তিনি গল্পটি তার লেখক স্বামীকেও দেখান । গল্প দেখে তিনি সামান্য কারেকশন করে দিলে সেটা  যে ছাপা যেতে পারে এ কথা বলেন । আর এ কথা শুনেই মাসি সেটা ছাপিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান , যেটা কিনা মেসোর উপযুক্ত কাজ হবে ।

তপনের হাত আছে চোখও আছে এখানেহাতচোখআছে বলতে কী বোঝানো হয়েছে ?

উঃ তপনের গল্প শুনে আর সবাই হাসাহাসি করলেও নতুন মেসো তার প্রতিবাদ করে আলোচ্য উক্তিটি করেন । এখানে ‘ হাত ’ আছে বলতে বোঝানো হয়েছে যে , তপনের লেখার ক্ষমতা আছে , বা ভাষার দখল আছে । আর ‘ চোখ ‘ আছে । কথার অর্থ হল তপন তার চারপাশের দুনিয়াটা ভালো করে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দেখতে ও উপলব্ধি করতে পারে । তার গল্প লেখার বিষয় নির্বাচন থেকেই এ কথা স্পষ্ট হয়ে যায় ।

 . “গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল তপনের”—তপনের গায়ে কখন এবং কেন কাটা দিয়ে উঠল ? +

উঃ জীবনের প্রথম গল্পটি লিখে ফেলার পর তপন নিজে যখন সেটা পড়েছিল তখনই তার গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠেছিল। 

একদিন দুপুরে যখন চারিদিক নিস্তব্ধ, সে একটা খাতা আর কলম নিয়ে মামাবাড়ির তিনতলার সিঁড়িতে বসে সারাদুপুর ধরে একটা আস্ত গল্প লিখে ফেলে। গল্প লেখার পর সে নিজেই গোটা গল্পটা লিখেছে ভেবে অবাক হয়ে যায়। গল্প শেষ করার পর আনন্দে, উত্তেজনায় তপনের সারা গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে।

১০আঃ ছোটোমাসি , ভালো হবে না বলছি কার উক্তি ? এই হুমকির কারণ কী ?

উঃ প্রশ্নোধৃত উদ্ভিটি আশাপূর্ণা দেবী রচিত ‘ জ্ঞানচক্ষু ‘ গল্পের কেন্দ্রীয় কার উক্তি চরিত্র তপনের । → লেখক – মেসোমশাইয়ের দৃষ্টাস্তে উদ্বুদ্ধ তপন একটি গল্প লিখে তার ছোটোমাসিকে দেখায় । তিনি তপনের গল্পটি সবটা কারণ । না পড়েই তার প্রশংসা করেন এবং তা কোথাও থেকে নকল করা কিনা তা জিজ্ঞেস করেন । এ কথায় রেগে গিয়ে তপন প্রশ্নে উদ্ধৃত উক্তিটি করে । 

১১যেন নেশায় পেয়েছে কাকে , কীসের নেশায় প্রশ্ন পেয়েছে বুঝিয়ে বলো  

উঃ আশাপূর্ণা দেবীর ‘ জ্ঞানচক্ষু ‘ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র তপনকে গল্প লেখার নেশায় পেয়েছে । আগে তপন মনে করত গল্প লেখা ভারী কঠিন কাজ , সাধারণ মানুষের পক্ষে তা সম্ভব নয় । লেখকরা বুঝি ভিন্ন গোত্রের মানুষ । কিন্তু লেখক- ছোটোমেসোকে দেখে অনুপ্রাণিত তপন সাহস করে লিখে ফেলে আস্ত গল্প । ছোটোমাসির হাত ঘুরে সেই গল্প ছোটোমেসোর হাতে পড়ে । তিনি তপনকে উৎসাহ দিতে গল্পটা পত্রিকায় ছাপিয়ে দেবেন বলে কথা দেন । উৎসাহিত তপন গল্প লেখার নেশায় মেতে ওঠে ।

১২ ওর লেখক মেসো ছাপিয়ে দিয়েছে – “ কে ? লেখকমেসোর কী ছাপিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে

উঃ ‘ ও ’ বলতে আলোচ্য অংশে গল্পকার আশাপূর্ণা দেবী রচিত ‘ জ্ঞানচক্ষু ’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র বালক তপনের কথা বলা হয়েছে । → তপনের লেখক মেসো তাঁর পরিচয় ও প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে তপনের লেখা গল্প ‘ সন্ধ্যাতারা ‘ পত্রিকায় ছাপিয়ে দিয়েছিলেন । এই সত্য জানার পর তপনের কোনো কোনো আত্মীয় তার কৃতিত্বকে খাটো করে দেখিয়ে প্রশ্নোদ্ভূত মন্তব্যটি করেছিলেন ।

১৩আমাদের থাকলে আমরাও চেষ্টা করে দেখতাম আমাদের বলতে কাদের কথা বলা হয়েছে ? তাদের কোন চেষ্টার কথা বোঝানো হয়েছে

উঃআলোচ্য উদ্ধৃতিটি আশাপূর্ণা দেবী রচিত ‘ জ্ঞানচক্ষু ‘ গল্প থেকে গৃহীত । উদ্ধৃতির বস্তুা তপনের মেজোকাকু ‘ আমাদের ’ বলতে এখানে নিজেকে এবং বাড়ির ‘ আমাদের কারা অন্য ব্যক্তিদেরকে বুঝিয়েছেন । লেখক মেসোর দৌলতে তপনের আনাড়ি হাতের লেখা গল্পও নামি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল । বালক তপনকে তাদের চেষ্টা উৎসাহ দেওয়ার পরিবর্তে তার মেজোকাকু উদ্ধৃত উক্তিটির দ্বারা সুযোগ পেলে যে তাঁরাও গল্প লিখতে পারতেন তাই বোঝাতে চেয়েছেন । 

১৪আজ আর অন্য কথা নেই –‘আজদিনটির বিশেষত্ব কী ? সেদিন আর অন্য কথা নেই কেন

উঃআশাপূর্ণা দেবী রচিত ‘ জ্ঞানচক্ষু ‘ গল্পে ‘ আজ ’ বলতে সেই দিনটির ‘ আজ ’ দিনটির বিশেষত্ব কথা বোঝানো হয়েছে , যেদিন তপনের মাসি ও মেসো ‘ সন্ধ্যাতারা ‘ পত্রিকার সেই সংস্করণটি নিয়ে এলেন , যাতে তপনের লেখা গল্প প্রকাশিত হয়েছিল । বালক তপনের লেখা গল্প যে সত্যি সত্যিই কোনো পত্রিকায় ছাপা হতে পারে , তা কেউই বিশ্বাস করেনি । কিন্তু যেদিন সত্যিই সেই অবিশ্বাস্য ঘটনাটি ঘটল , সেদিন সকলের কেন অন্য কথা নেই মুখে মুখে বারবার এই ঘটনার কথাই আলোচিত হচ্ছিল ।

১৫তারপর ধমক খায় , তপনের ধমক খাওয়ার কারণ কী ছিল

উঃ ‘ জ্ঞানচক্ষু ‘ গল্পের নায়ক তপন পত্রিকায় প্রকাশিত নিজের লেখা গল্পটি সকলকে পড়ে শোনাতে উদ্যত হয় । কিন্তু পড়তে গিয়ে সে আশ্চর্যের সঙ্গে লক্ষ করে যে , তার লেখক মেসোমশাই তার গল্পটি সংশোধনের নামে প্রায় সম্পূর্ণ বদলে ফেলেছেন । এই ঘটনায় হতবাক তপনের অভিমানে গলা বুজে আসে । এদিকে গল্প পড়তে না – শুরু করায় সকলে অধৈর্য হয়ে গাকে ধমক দিতে শুরু করে ।

১৬সন্ধ্যাতারাপত্রিকায় তপনের গল্প ছেপে বেরোয় তবু তপনের এত দুঃখ হয়েছিল কেন

Ans: তপন ভাবত লেখকরা কোনো স্বপ্নের জগতের মানুষ । কিন্তু লেখক – মেসোকে দেখে তার ভুল ভাঙে । উৎসাহিত তপন নিজেই লিখে ফেলে একটা গল্প । ছোটোমেসোর উদ্যোগে সামান্য কারেকশনের পর সেটা ছেপেও বেরোয় সন্ধ্যাতারা ‘ পত্রিকায় । পত্রিকার সূচিপত্রে নিজের নাম ছাপার অক্ষরে দেখে আনন্দে আত্মহারা হয় তপন । কিন্তু গল্পটা পড়া শুরু করতেই সে বুঝতে পারে কারেকশনের নাম করে ছোটোমেসো তার গল্পটা আগাগোড়াই পালটে দিয়েছেন । নিজের লেখার পরিবর্তে একটা সম্পূর্ণ অচেনা লেখা দেখে তপনের আনন্দ মিলিয়ে যায় । 

১৭শুধু এই দুঃখের মুহূর্তে গভীর সংকল্প করে তপন , দুঃখের মুহূর্তটি কী ? তপন কী সংকল্প করেছিল

উঃদুঃখের মুহূর্ত উত্তর ‘ জ্ঞানচক্ষু ’ গল্পের নায়ক তপনের জীবনের সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্তটি একপলকে দুঃখের মুহূর্তে পর্যবসিত হয় । কারণ সে প্রকাশিত গল্পটি পড়তে গিয়ে টের পায় , লেখক – মেসো গল্পটিকে সংশোধনের নামে প্রায় সম্পূর্ণ বদলে ফেলেছেন । এ গল্পকে আর যাই হোক তার নিজের লেখা বলা যায় না । এই ঘটনায় তপন সংকল্প করেছিল যে , যদি কোনোদিন নিজের কোনো লেখা ছাপতে দেয় , তবে নিজে গিয়ে ছাপতে কৃত সংকল্প দেবে । ছাপা হোক বা না হোক অন্তত তাকে এ কথা শুনতে হবে না যে , কেউ তার লেখা প্রভাব খাটিয়ে ছাপিয়ে দিয়েছে ।

১৮তপনকে যেন আর কখনো শুনতে না হয় কী নাশোনার কথা বলা হয়েছে ?

Ans: ‘ জ্ঞানচক্ষু ‘ গল্পের নায়ক বালক তপন গল্প লেখায় যতই আনাড়ি হোক না কেন , সে মনেপ্রাণে একজন লেখক । তার লেখা । গল্পের ওপরে তার লেখক মেসোর সংশোধনের নামে খোলনলচে বদলে দেওয়া তপনের কাছে অপমানজনক । এই ঘটনায় সে অভিমানে বাদ্ধ হয়ে যায় । আত্ম – অসম্মানে আহত তপন সংকল্প নেয় যে , পরবর্তীকালে লেখা ছাপাতে দিলে সে নিজে দেবে । তবু এ কথা তাকে শুনতে হবে না । যে , অন্য কেউ তা ছাপিয়ে দিয়েছে ।

১৯তার চেয়ে দুঃখের কিছু নেই , তার থেকে অপমানের ! — ‘ তার চেয়ে বলতে কী বোঝানো হয়েছে ?

উঃআশাপূর্ণা দেবী রচিত ‘ জ্ঞানচক্ষু ‘ গল্পে আলোচ্য অংশে ‘ তার চেয়ে ’ বলতে তপনের নিজের লেখা গল্প লেখক মেসোর হাতে পড়ে নির্বিচারে পরিবর্তিত হওয়ার কথা বলা হয়েছে । নিজের গল্প পড়তে বসে অন্যের লেখা পড়াটা তার কাছে গভীর দুঃখের ও অপমানের বলে মনে হয়েছিল । এই আত্মসম্মানবোধ থেকেই তৃপনের অন্তর্মনে মৌলিকতার অনুপ্রেরণা জেগে ওঠে ।

রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর 
আর সবাই তপনের গল্প শুনে হাসে সকলের তপনের গল্প শুনে হাসার কারণ কী ? তার গল্পের যথাযথ মূল্যায়ন কে , কীভাবে করেছিলেন ?
অথবা , ‘ বিকেলে চায়ের টেবিলে ওঠে কথাটা চায়ের টেবিলে ওঠা কথাটি সম্পর্কে বাড়ির মানুষদের প্রতিক্রিয়া কী ছিল ? নতুন মেসোরইবা এই ঘটনায় বক্তব্য কী ছিল ? হাসার কারণ

উঃ ‘ জ্ঞানচক্ষু ’ গল্প থেকে গৃহীত অংশটিতে ‘ সবাই ’ বলতে তপনের বাড়ির লোকজনকে বোঝানো হয়েছে । বাড়ির বড়োদের চোখে সে ছিল নেহাতই ছোটো , তার গুরুত্ব কম । সে যে রাতারাতি একটা গল্প লিখে ফেলতে পারে , আর সে – গল্প যে ছাপানোর যোগ্য হতে পারে তা প্রথমে কেউই বিশ্বাস করতে পারেননি । তাই সকলে তপনের গল্প শুনে হেসেছিলেন । বাড়ির সকলে তার লেখা গল্পকে গুরুত্ব না দিলেও , তার লেখক নতুন মেসো কিন্তু এই গল্পের যথাযোগ্য মর্যাদা দিয়েছিলেন । তপনের মাসি তার গল্পটি মেসোকে দেখালে , তিনি তা একটি পত্রিকায় গল্পের মূল্যায়ন কে , কীভাবে করেছিলেন ? প্রকাশ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন । বিকেলে চায়ের টেবিলে সকলে তপনের লেখা গল্প নিয়ে হাসাহাসি ত করলেও , লেখক – মেসো কিন্তু তপনের প্রশংসা করেন । তিনি বলেন যে , না তপনের লেখার হাত ও দেখার চোখ দুই – ই আছে । কারণ তার বয়সি ছেলেমেয়েরা সাধারণত রাজারানি , খুন , জখম , অ্যাকসিডেন্ট , নয়তো না – খেতে পেয়ে মরে যাওয়া প্রভৃতি বিষয়ে গল্প লেখে । কিন্তু তপন সেসব না – লিখে তার ভরতি হওয়ার দিনের অভিজ্ঞতা আর অনুভূতি নিয়ে গল্প লিখেছে । তপনের লেখক মেসোর মতে , এ খুব বিরল লক্ষণ । এইভাবে তপনের মেসো তার লেখা গল্পের মূল্যায়ন করেছিলেন । তবে তপনের গল্পে আনাড়ি হাতের ছাপ থাকায় , তিনি তা সংশোধন করে দিয়েছিলেন । 

 জ্ঞানচক্ষু গল্পে তপন চরিত্রটি বিশ্লেষণ করো
উঃ আশাপূর্ণা দেবীর ‘ জ্ঞানচক্ষু ’ গল্পের তপনের মধ্যেও সব শিশুর মতোই আশা – আকাঙ্ক্ষা , স্বপ্ন – স্বপ্নভঙ্গ , কল্পনা বাস্তব , আনন্দ – অভিমানের টানাপোড়েন দেখা যায় । তবে তার চরিত্রের বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য তাকে আলাদা করে রাখে । তপন মনে মনে তার কল্পনার জগৎকে সাজিয়ে নিতে ভালোবাসে । তাই তার কল্পনার জগতে লেখকরা ছিলেন ভিন কল্পনাপ্রবণ গ্রহেরপ্রাণী । সাধারণ মানুষদের সঙ্গে তাদের বুঝি বা কোনো মিলই নেই । সাহিত্যপ্রেমী সাহিত্যের প্রতি তপনের ঝোঁক ছোটোবেলা থেকেই । সে অনেক গল্প শুনেছে ও পড়েছে । লেখকদের সম্পর্কেও তার কৌতূহল অসীম । ছোটোমেসোকে দেখে তার মনেও লেখক হওয়ার ইচ্ছে জাগে । উৎসাহী হয়ে বেশ কয়েকটা গল্পও লিখে বয়স অনুপাতে তপন একটু বেশিই সংবেদনশীল । সমবয়সি ছেলেমেয়েদের মতো রাজারানি , খুন – জখম ও অ্যাকসিডেন্ট নিয়ে না – লিখে , তার ব্যক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতা আর অনুভূতি সংবেদনশীল ও অন্তর্মুখী ২ ঠাট্টাতামাশা বা মাসি মেসোর উৎসাহদান কোনোটাতেই সে প্রকাশ্যে তার প্রতিক্রিয়া দেখায় না । এটা তার অন্তর্মুখী স্বভাবেরই পরিচয় । তাই কারেকশনের নামে মেসো তার গল্পটা আগাগোড়া বদলে দিলে তপন তার কষ্ট লুকোতে ছাদে গিয়ে কাঁদে । 

 তপনের আত্মমর্যাদা বোধ ছিল প্রবল । তার গল্প ছোটোমেসো কারেকশনের নাম করে আগাগোড়াই বদলে দিলে তপনের লেখকসত্তা আহত হয় । সে মনে মনে শপথ নেয় , ভবিষ্যতে লেখা ছাপাতে হালে সে নিজে গিয়ে লেখা দিয়ে আসবে পত্রিকা অফিসে । তাতে যদি তার মতো নতুন লেখকের লেখা ছাপা না হয় , তাতেও দুঃখ নেই । 

৩ ছোটোগল্প হিসেবে আশাপূর্ণা দেবী রচিতজ্ঞানচক্ষুগল্পের সার্থকতা বিচার করো  

উঃশুধু আয়তনে ছোটো হলেই কোনো গল্প ছোটোগল্পের পর্যায়ে পড়ে না । ছোটোগল্পের কিছু নিজস্ব বৈশিষ্ট্য থাকে । সেই বৈশিষ্ট্যগুলির সাপেক্ষে ‘ জ্ঞানচক্ষু ‘ গল্পটিকে বিচার করলে বোঝা যাবে ছোটোগল্প হিসেবে সেটি কতটা সার্থক  ছোটোগল্প শুরু হয় হঠাৎ করে । ‘ জ্ঞানচক্ষু ’ গল্পতেও এই বৈশিষ্ট্যটি লক্ষ করা যায় । ‘ কথাটা শুনে তপনের চোখ মার্বেল হয়ে গেল’— এই বাক্যটি দিয়ে আচমকাই গল্পটি শুরু হয় । হঠাৎ শুরু গল্প লেখাকে কেন্দ্র করে তপনের মোহ এবং সেই মোহভঙ্গের কাহিনিকে ঘিরেই এই গল্প । গল্পে অন্য কোনো উপকাহিনি গড়ে একটি মাত্র য় বিষয়কেন্দ্রিকতা ওঠেনি । তাই গল্পটি তার সংক্ষিপ্ত পরিধির মধ্যে একটি মাত্র বিষয়েই সীমাবদ্ধ । ‘ জ্ঞানচক্ষু ’ গল্পে তপন ছাড়াও যে চরিত্রগুলির ভূমিকা নজর কাড়ে , তাঁরা হলেন তপনের ছোটোমাসি এবং মেসো । বাকি কম চরিত্রের উপস্থিতি চরিত্রগুলি নেহাতই গৌণ । এক্ষেত্রেও ছোটোগল্পের বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রয়েছে । অতিরিক্ত চরিত্রের ভিড় নেই । ছোটোগল্প যেমন হঠাৎ করে শুরু হয় , তেমনই হঠাৎই শেষ হয় । গল্প শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও পাঠকের মনে এক ধরনের অতৃপ্তি থেকে যায় । ‘ জ্ঞানচক্ষু ‘ গল্পটিও এর ব্যতিক্রম নয় । ছাপার অক্ষরে অসমাপ্তির রেশ নিজের নামের মতোই নিজের লেখাকেও দেখতে চেয়েছিল তপন । তার সেই স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রণা নিয়েই গল্পটি শেষ হয় । ‘ জ্ঞানচক্ষু ’ গল্পটির মধ্যে ছোটোগল্পের প্রতিটি বৈশিষ্ট্যই রয়েছে । সুতরাং , ছোটোগল্প হিসেবে এটি নিঃসন্দেহে সার্থক ।

জ্ঞানচক্ষু গল্পে জ্ঞানচক্ষু বলতে কী বোঝানো হয়েছে ? গল্পটি পড়ে তুমি কী শিক্ষা পেলে লেখো  
উঃ জ্ঞানচক্ষু ‘ গল্পটির লেখিকা কথাশিল্পী আশাপূর্ণা দেবী । তিনি জ্ঞানচক্ষু কী ? জ্ঞানচক্ষু ’ বলতে মানুষের আত্ম – অনুভূতি এবং অন্তদৃষ্টি লাভের বিষয়টিকে তুলে ধরতে চেয়েছেন । ” জ্ঞানচক্ষু ‘ গল্পটির নায়ক তপন । ছোট্ট তপন তার সীমিত জীবনবৃত্তে কখনও কোনো লেখককে দেখেনি । তাই সত্যিকারের লেখক নতুন মেসোকে দেখে সাহিত্যিক সম্পর্কে তার সমস্ত ভুল ধারণার নিরসন হয় । মেসোকে হাতের কাছে পেয়ে অনুপ্রাণিত হয়ে সে নিজেই এবার একটা আস্ত গল্প লিখে ফেলে । 

এরপর মাসির প্রশ্রয়ে এবং লেখক মেসোর প্রভাবে সেই গল্পটি পত্রিকায় প্রকাশিত হয় । সে মনে মনে বেশ গর্বও অনুভব করে । কিন্তু ছাপা লেখাটি পড়তে গিয়ে টের পায় সংশোধন করতে গিয়ে লেখক – মেসো গল্পের আগাগোড়া বদলে দিয়েছেন । নির্বিচারে কলম চালানোয় নিজের নামে সঙ্গ পড়ে প্রাপ্ত শিক্ষা ছাপানো গল্পে সে আর নিজেকেই কোথাও খুঁজে পায় না । ফলে তপনের লেখকমন আহত হয় । সে দুঃখে , লজ্জায় ও অসম্মানে একলা হাতে গিয়ে কেঁদে ফেলে । এমন গভীর খারাপ লাগার দিনে দাঁড়িয়ে সে সংকল্প করে ; ভবিষ্যতে কারও মুখাপেক্ষী না হয়ে নিজের লেখা নিজেই ছাপতে দেবে । আসলে কাউকে অবলম্বন করে কিছু পেতে গেলে যে আত্মসম্মান খুইয়ে নিজের মনের আয়নায় নিজেকেই ছোটো হয়ে যেতে হয় এই শিক্ষাই তপন লাভ করে আর আমরাও তার সঙ্গে টের পাই স্বকীয়তা এবং আত্মমর্যাদাবোধের সঙ্গে আপস করে কখনই জীবনে কিছু লাভ করা যায় না । 

Click Here To Download  The PDF

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!